বিষাদ

ছোটগল্প বিষাদ
ছোট গল্প

‘মা অসুস্থ, ফিলিং ডিপ্রেসড!’, মাত্র ২৫ মিনিট আগে দেওয়া পোস্টটায় হুহু করে কিছুক্ষণের মধ্যেই কতগুলো রিয়্যাক্ট কমেন্ট বাড়লো বসে বসে তা গুনছে তনিমা। কানে হেডফোন।
কেবিনের খাটে তার মা শোয়া। গতকাল অপারেশন গেলো।
এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি । কথা বলতে পারেন হালকা হালকা। হুঁশ আছে।

‘তনিমা,একটু পানি দে মা!’ কথাটা ৬ষ্ঠ বার রিপিট করার পর খেয়াল করলেন শ্যামলা একটা হাত পানির গ্লাস ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটার দিকে তাকাতে তাকাতেই পানির গ্লাসটা নিলেন তিনি। পানি খেয়ে তিনি জিগ্যেস করলেন, ‘তুমি কে মা? কোন রুমের পেশেন্ট?’

আমার নাম নীলা। আমি আপনার পাশের রুমে আছি, তিন দিন হলো। এক সপ্তাহ পর ডেলিভারি ডেট। দোয়া রাখবেন।
-আলহামদুলিল্লাহ! প্রথম সন্তান নাকি?’

-জ্বি, বিয়ের ২ বছর পর।’

বাহ্,ভালোই। সাথে কে আছে? মা নিশ্চয়ই! প্রথম নাতি! অনুভূতি কেমন ওনার!’

-সাথে শ্বাশুড়ি, আমার মা নেই খালাম্মা। ১৬ বছর আগে মারা গিয়েছেন। বাবা খেয়ালী মানুষ। আমি আমার চাচা চাচীর ঘরে বড় হয়েছি।

-ওহ, কী হয়েছিলো?

-ব্রেইন টিউমার। বাঁচানো যায়নি বহু চেষ্টার পরও, দেরী হয়ে গিয়েছিল নাকি। চলি মা,সিস্টার আসবে এখন, চেক আপের জন্য। দোয়া রাখবেন । প্রয়োজনে ডাক দিবেন ।

মিসেস রুনা হাসিমুখে বিদায় দিলেন নীলাকে। তারপর নিজের মেয়েটার দিকে চেয়ে রইলেন। ২৩ বছর আগে এমনই কোনো এক বৃষ্টিমুখর দিনে ক্রিটিকাল সিচুয়েশন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি হাসপাতালে । মা এবং মেয়ের মধ্যে যেকোনো একজনের বাঁচার সম্ভাবনা ছিলো সেদিন ! আল্লাহর রহমত এবং ডাক্তারদের প্রচেষ্টায় সেদিন দুজনেই বেঁচে ফিরেছিলেন।
মিসেস রুনার মনে পড়ে, তিনি সেদিন তার জীবনের এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্বপ্নটা দেখেছিলেন তার সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির মুখের দিকে চেয়ে ।
‘ এত বড় আশির্বাদ! সে কি আর যা তা কথা!!মেয়ে আমার অতুলনীয় হবে! আমার লাকী চার্ম ও!’
আজ সেই আশির্বাদ এর দিকে শূণ্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন তিনি। চোখে জলের ধারা টের পাচ্ছেন।আর ভেতরে টের পাচ্ছেন ব্যর্থতা আর হতাশার সম্মিলিত হাহাকার!
বাবা মায়ের মাঝে,সুস্থ পরিবেশে থাকলেই সবাই মানুষ হয়?! পাশের রুম থেকে একটু আগে তবে সৃষ্টির একি অপূর্ব উদাহরণ দেখা দিয়ে গেলো!
অনুগল্প – বিষাদ
তাসনিম বিনতে জোনায়েদ রিশাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *